কপালকুণ্ডলা (সংক্ষিপ্ত কাহিনী)

Estimated Reading Time: 6 Minutes

সপ্তগ্রামের বাসিন্দা নবকুমার সাগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এক জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে আটকা পড়ে। সেখানে এক কাপালিক তাকে বলি দিতে উদ্যত হয়। তখন কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। স্থানীয় মন্দিরের অধিকারীর সহায়তায় নবকুমার কপালকুণ্ডলাকে বিয়ে করে নিজের বাড়ি সপ্তগ্রামে ফিরে আসে। পথে মতিবিবি তথা লুৎফউন্নিসা নামক এক রমণীর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। এই মতিবিবি ছিল নবকুমারের প্রথম স্ত্রী যার সাথে কৌশরে নবকুমারের বিয়ে হয়েছিল। পরে এক যুদ্ধের সময় মোঘলদের থেকে রক্ষা পেতে মতিবিবিরা স্বপরিবারে মুসলমান হয়ে যাওয়ায় নবকুমারের পিতা পুত্রবধুকে আর গ্রহণ করেন নি। পথে নবকুমারকে দেখে মতিবিবি পুনরায় তাকে স্বামীরূপে লাভ করতে চায় এবং সে সপ্তগ্রাম চলে আসে। কিন্তু পরিচয় জানার পর নবকুমার তাকে প্রত্যাখ্যান করে।

কপালকুণ্ডলা জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপে বড় হওয়ায় স্বাভাবিক সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে অপরিচিত ছিল। নবকুমারের বাড়িতে সে সমাজের মানুষজন ও তাদের আচারআচরণ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে থাকে। কপালাকুণ্ডলা বদলে তার নাম রাখা হল মৃন্ময়ী।

এদিকে কাপালিক কপালকুণ্ডলার সন্ধানে সপ্তগ্রাম চলে আসে। সে মতিবিবির সাহায্য চায়। উভয়ের লক্ষ্যই এখন এক। কাপালিক কপালকুণ্ডলাকে বলি দিতে চায় আর মতিবিবি চায় নবকুমারকে ফিরে পেতে। মতিবিবি ব্রাহ্মণবেশ ধারণ করে কপালকুণ্ডলার সাথে বনের ভিতরে দেখা করে। ব্রাহ্মণবেশী মতিবিবির সাথে কপালকুণ্ডলাকে দেখতে পেয়ে নবকুমার তাকে ভুল বুঝে কষ্ট পায়। আর কাপালিক এই সুযোগ বুঝে সুরাপান করিয়ে নবকুমারকে উস্কে দিতে থাকে এবং তাকে বোঝাতে থাকে – কপালকুণ্ডলা অবিশ্বাসী তাকে বলি দিতে হবে। একপর্যায়ে কপালকুণ্ডলা কাপালিকের হাতে বলি হতে রাজি হয়। বলির ঠিক পূর্বমূহুর্তে নবকুমারের সাথে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সংঘাতময় কথোপকথনের সময় বালির পাড় ভেঙ্গে কপালকুণ্ডলা পানিতে পরে যায়। নবকুমারও তাকে বাঁচাতে পানিতে ঝাপ দেয়। এভাবে শেষপর্যন্ত নবকুমার আর কপালকুণ্ডলার মনস্তাত্ত্বিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে উভয়েই জীবনের চরম উপসংহারে উপনীত হয়।

তথ্য:

  • রচনার ধরন: উপন্যাস
  • সাল: ১৮৬৬
  • রচয়িতা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  • উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, কাপালিক, মতিবিবি প্রমূখ।

2 thoughts on “কপালকুণ্ডলা (সংক্ষিপ্ত কাহিনী)”

Leave a Reply