ধর্মমঙ্গল (সংক্ষিপ্ত কাহিনী)

Estimated Reading Time: 9 Minutes

ধর্মমঙ্গল কাব্যের কাহিনি দুটি: রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী ও লাউসেনের কাহিনি।

হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি

রাজা হরিশ্চন্দ্র ও রানী মদনা নিঃসন্তান ছিলেন। মনের দুঃখে ঘুরতে ঘুরতে তারা বল্লুকা নদীর তীরে উপস্থিত হন। সেখানে ধর্মঠাকুরের ভক্তদের কাছ থেকে ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য শুনে রাজা ও রানী ধর্মঠাকুরের পূজার্চনা শুরু করেন। ফলে একসময় তারা শর্তসাপেক্ষে পুত্র সন্তান লাভ করেন। শর্তটি ছিল তাদের পুত্রকে ধর্মঠাকুরের কাছে যথাসময়ে বলি দিতে হবে। রাজা ও রানী পুত্রকে পেয়ে ধর্মঠাকুরের কাছে বলি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ধর্মঠাকুর ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে একদিন তাদের সামনে উপস্থিত হন। ছদ্মবেশী ব্রাহ্মণ একাদশীর ব্রত পালন করার জন্য রাজপুত্র লুইধরের মাংস আহার করতে চান। ব্রাহ্মণের সেবায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রাজা ও রানী পুত্রকে বধ করে তার মাংস রান্না করে ব্রহ্মণকে খেতে দেন। রাজা ও রানীর এই নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে ধর্মঠাকুর লুইধরকে পুনরায় জীবিত করে দেন। এরপর রাজা ও রানীর প্রচেষ্টায় ধর্মঠাকুরের পূজা আয়োজিত হতে থাকে।

লাউসেনের কাহিনি

ঢেকুরগড়ের অধিপতি কর্ণসেন ছিলেন গৌড়েশ্বরের অধীস্ত এক সামন্ত রাজা। ঢেকুরগড়ের বিদ্রোহী রাজা ইছাই ঘোষকে দমন করতে গিয়ে কর্নসেনের ছয় পুত্র নিহত হয়। এদিকে মর্ত্যে ধর্মের পূজা প্রচারের জন্য দেবনর্তকী জাম্ববতীকে স্বর্গভ্রষ্ট করে রঞ্জাবতী নামে মর্ত্যে পাঠানো হয়। রঞ্জাবতীর ভাই মহামদ ছিলেন গৌড়রাজের প্রধান অমাত্য।

গৌড়েশ্বর তাঁর শ্যালিকা রঞ্জাবতীর সঙ্গে কর্ণসেনের বিয়ে দেন। এই বিয়েতে মহামদের অমত ছিল। বহুদিন পর্যন্ত রঞ্জাবতী নিঃসন্তান থাকে। কিন্তু ধর্মঠাকুরের কৃপায় কর্ণসেন ও রঞ্জাবতী এক পুত্রসন্তান লাভ করেন; তার নাম রাখা হয় লাউসেন। লাউসেন ক্রমে খ্যাতিমান বীর হয়ে ওঠে।

বোন ও ভগ্নিপতির ওপর পূর্বরাগ থেকে মহামদ লাউসেন-এর উপরও ক্ষিপ্ত ছিল। একসময় শক্তি পরীক্ষার জন্য লাউসেন গৌড়ে গেলে মাতুল মহামদ লাউসেনকে বন্দী করে। কিন্তু গৌড়েশ্বরের কাছে লাউসেন তার বাহুবলের পারদর্শিতা দেখিয়ে কারামুক্ত হয়। মহামদ লাউসেনের অনিষ্ট সাধনের জন্য গৌড়েশ্বরকে কামরূপ রাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লাউসেনকে পাঠানোর পরামর্শ দেয়। যুদ্ধে কামরূপ রাজা পরাভূত হন। লাউসেন তার কন্যা কলিঙ্গাকে বিবাহ করে গৌড়ে সগৌরবে ফিরে আসে।

এবার বিদ্রোহী ঢেকুররাজ ইছাই ঘোষকে দমনের জন্য লাউসেনকে পাঠানো হয়। ধর্মের আশীর্বাদে লাউসেন এ যুদ্ধেও বিজয়ী হয়। একসময় মহামদের চক্রান্তে গৌড়েশ্বর লাউসেনকে পশ্চিমদিকে সূর্যোদয় করে দেখাতে আদেশ দেন এবং ব্যার্থ হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন। ধর্মের কৃপায় লাউসেন তাতেও সফল হয়। এদিকে মহামদ ময়নাগড় আক্রমণ করে। তাঁকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে রানী কলিঙ্গা, লাউসেনের সেনাপতিসহ অন্যান্যদের প্রাণ যায়। লাউসেন দেশে ফিরে এসে তার বিধ্বস্ত রাজ্য দেখে ধর্মের স্তব করতে শুরু করে। ধর্মের অনুগ্রহে সকলে প্রাণ ফিরে পায় এবং মহামদের কুষ্ঠ রোগ হয়। লাউসেনের দয়ায় তার কুণ্ঠ সারে। এরপর দীর্ঘকাল রাজত্ব করার পর পুত্র চিত্রসেনের হাতে রাজ্যভার অর্পন করে লাউসেন সপরিবারে স্বর্গে গমন করে।

(সংগৃহিত ও পরিমার্জিত);

Leave a Reply